October 19, 2026...
🌍 Global Wonders & Mysteries

মরুভূমির বুকে নিজে থেকেই হেঁটে বেড়ায় পাথর, আর রহস্যের সমাধান করেছে বিজ্ঞান

🔄 তথ্য আপডেট: অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি (Death Valley) উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে গরম ও শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি। এই মরুভূমির রেসট্র্যাক প্লায়া (Racetrack Playa) নামের শুকনো হ্রদে ঘটে এক অদ্ভুত কাণ্ড। বিশাল সব পাথর নিজে থেকেই মাটির ওপর দিয়ে বহু দূর সরে যায় এবং পেছনে রেখে যায় লম্বা দাগ! কেউ খালি চোখে তাদের নড়তে দেখেনি, কিন্তু কিছুদিন পর গিয়ে দেখা যায় পাথর অন্য জায়গায়। 🪨🏜️

৩–৬ মিমি
পাথর সরানো বরফের পুরুত্ব (জানালার কাচের মতো পাতলা)
৩–৫ মি/সে
হালকা বাতাসের গতি
২–৫ মি/মিনিট
পাথরের চলার গতি

🕵️ পুরোনো তত্ত্বগুলো কেন ভুল ছিল?

১৯৪০-এর দশক থেকে মানুষ ভেবেছে, কিন্তু কেউ কখনো পাথরকে নড়তে দেখেনি। তাই গল্পের অভাব ছিল না:

👽 ভিনগ্রহী বা চুম্বক শক্তি

এর পক্ষে কোনো প্রমাণ কখনো মেলেনি।

🌪️ প্রচণ্ড ঝড় বা ধুলোর ঘূর্ণি

আসল ঘটনার সময় বাতাস ছিল খুবই হালকা, প্রচণ্ড ঝড় নয়।

🧊 মোটা বরফের চাদর

আসলে বরফ ছিল মাত্র কয়েক মিলিমিটার পাতলা।

🔬 ২০১৪: রহস্যের সমাধান

বিজ্ঞানী রিচার্ড নরিস ও তাঁর দল প্লায়ায় একটি আবহাওয়া কেন্দ্র, টাইম-ল্যাপ্স ক্যামেরা এবং ১৫টি পাথরে লাগানো GPS ডিভাইস বসান। ২০১৩ সালের শীতে প্লায়ায় অগভীর পানি জমলে, এই প্রথম পাথরের নড়াচড়া সরাসরি রেকর্ড হয়। গবেষণাটি ২০১৪ সালে PLOS ONE জার্নালে প্রকাশিত হয়। ধাপগুলো হলো:

১
অগভীর হ্রদ তৈরি
বৃষ্টি বা তুষারপাতের পর শুকনো প্লায়ায় প্রায় ১০ সেমি গভীর পানি জমে।
২
রাতে পাতলা বরফ
ঠান্ডা রাতে পানির ওপর কয়েক মিলিমিটার পাতলা বরফের স্তর জমে।
৩
দুপুরে বরফ ভাঙে
সূর্য উঠলে বরফ গলে ভেঙে ভেঙে ভাসমান প্যানেল হয়ে যায়।
৪
হালকা বাতাসে ধাক্কা
হালকা বাতাস প্যানেলগুলোকে পাথরের গায়ে ঠেলে দেয়। নৌকার পালের মতো কাজ করে পাথরকে নরম কাদার ওপর দিয়ে ধীরে ঠেলে এগিয়ে নেয়।
🤔 তাহলে সব পাথর একই দিকে যায় না কেন?

বাতাসের দিক, পানির স্রোত ও বরফের প্যানেলের আকার ভিন্ন হওয়ায় পাথরগুলো আলাদা পথ নিতে পারে। আবার কয়েকটি পাথর একই বরফ-প্যানেলে আটকে থাকলে সমান্তরাল দাগও তৈরি হতে পারে।

⚖️ কত ভারী পাথর নড়ে?

রেসট্র্যাকের কিছু পাথর শতাধিক কেজির, ট্র্যাক রেখে যাওয়া সবচেয়ে ভারীগুলো প্রায় ৩০০ কেজি পর্যন্ত বলা হয়। তবে গবেষণায় যেসব পাথর চলতে দেখা গেছে সেগুলো ছোট (সর্বোচ্চ প্রায় ১৬ কেজি)। ভারী পাথরের চলা একই প্রক্রিয়ায় ঘটে বলে ধরা হয়, তবে তা সরাসরি রেকর্ড হয়নি।

🆕 আরও যা জানা গেছে
  • গবেষকরা আড়াই মাসে পাঁচটি আলাদা নড়াচড়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেন, কোনোটিতে শত শত পাথর একসাথে সরেছে।
  • এই ঘটনা খুবই বিরল। গবেষণার আগে সর্বশেষ সন্দেহজনক নড়াচড়া ধরা হয়েছিল ২০০৬ সালে।
  • গবেষকদের ধারণা, পাথর নড়ার জন্য ঠান্ডা রাত লাগে, তাই ১৯৭০-এর দশক থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর ঘটনা কমে থাকতে পারে।
🚫 সচেতন দর্শক হও

ভেজা প্লায়ায় হাঁটলে স্থায়ী দাগ পড়ে যায়, আর পাথর সরালে প্রকৃতির এই রেকর্ড নষ্ট হয়। তাই ঘুরতে গেলে জাতীয় উদ্যানের নিয়ম মেনে চলো।

অর্থাৎ জাদুকরী কোনো শক্তি নয়, পাতলা বরফ আর হালকা বাতাসের নিখুঁত সমন্বয়েই পাথরগুলো হেঁটে বেড়ায়! ✨

প্রকৃতির এমন চমকপ্রদ ঘটনা তোমাকে কি অবাক করে না? 🌍

অজানা সব তথ্য জানতে যুক্ত থাকো istiak.bond-এর সাথে! 🚀